History of University

img

অপার সৌন্দর্যের লীলাভূমিতে সমৃদ্ধির মাইল ফলক, শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়ঃ


সুজলা- সুফলা শস্য শ্যামলা আমাদের দেশ বাংলাদেশ। আর প্রাকৃতিক ঐশ্বর্যে ভরপুর নেত্রকোণা
জেলাতে রয়েছে দিগন্ত জুড়ে সবুজের সমারোহ, ফসলী মাঠ, ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অসংখ্য হাওড়-বাওড়।
সেখানে ফোটে অসংখ্য নাম না জানা ফুল। আর সেসব ফুলে বসে প্রজাপতি, ভ্রমর খেলা করে, যা
প্রকৃতিকে মনোমুগ্ধকর রূপে আমাদের সামনে উপস্থাপন করে। নেত্রকোণা জেলাকে প্রকৃতি তার
সৌন্দর্য্য করে দিয়েছে।
বাওড়ে প্রতিদিনই মাঝিরা নৌকা বেয়ে মাছ ধরে তাদের জীবিকা নির্বাহ করেন। বলা চলে বাওড়ই
তাদের প্রাণ। তেমনি একজন আছেন মহর মাঝি। যিনি দিন এনে দিন খাওয়াদের মধ্যে একজন। তার
ছেলেমেয়ে বলতে এক ছেলে এবং দুই মেয়ে। ছেলেটি লেখাপড়ায় অনেক ভাল। তারও শখ করে তার ছেলে
শিক্ষিত হোক। ভাল একজন ইঞ্জিনিয়ার হোক।
ছেলের নাম সুমন। সে এখন ১০ম শ্রেণীর ছাত্র। গ্রামের ছোট্ট একটি স্কুলে সে পড়ে। স্কুলটি টিনের
ছাউনি দিয়ে তৈরি। একটু বৃষ্টি হলেই টিনের ছোট ছিদ্র দিয়ে পানি পড়ে। আবার সেখানে মানসম্মত
শিক্ষা দেওয়ার মত তেমন ভাল শিক্ষকও নেই।
এদিকে সুমন চায় তার বাবার স্বপ্ন সে পূরণ করবে। আর তারই ধারাবাহিকতায় সে একজন জেনেটিক
ইঞ্জিনিয়ার হবে, গবেষণা করবে জেনেটিক্স সম্পর্কে। উদ্ভাবন করবে নতুন কিছু। সংসারে আলো
ফিরে আসবে, ঘুচবে দারিদ্রতা।
কিন্তু সেখানে একটা ভাল স্কুল এবং কোন বিশ্ববিদ্যালয়ও নেই, যেখানে পড়ে সে তার স্বপ্ন পুরণ
করবে। বিভিন্ন সংশয় আর উৎকণ্ঠা নিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে তার পড়াশোনা।
আবার অন্যদিকে ৮০ বছরের বৃদ্ধ বরকত আলী। তিনি পেশায় একজন কৃষক। তিনিও স্বপ্ন দেখেন
নেত্রকোণায় একটা ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৈরি হবে যেখান থেকে অনেক ভালো শিক্ষার্থীরা
পরবর্তীতে দেশের সম্পদে পরিণত হবে। আর তারা তাদের নিজের পাশাপাশি জেলার নামকেও সমৃদ্ধ
করবে। তাদের অঞ্চলে তৈরি হবে নতুন নতুন সম্ভাবনার দ্বার।
এরই ধারাবাহিকতায় সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের
আদর্শে তারই সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে নেত্রকোণায় তৈরি হচ্ছে
আধুনিক মানের একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়।
বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে নামকরণ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টিকে ঘিরে
আছে অসংখ্য বাওড় আর সবুজের সমারোহ। উপর থেকে দেখলে মনে হবে অপার সৌন্দর্যের মাঝে
নতুন সভ্যতা সৃষ্টির এক মাইলফলক, যেখানে থাকবে উন্নতমানের সকল সুযোগ সুবিধা, তৈরি হবে
আগামীর সম্ভাবনা।

বিশ্ববিদ্যালয়টি নির্মিত হচ্ছে ৫০০ একর সুবিশাল জায়গার উপরে। এর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে
২৬৩৭.৪১ কোটি টাকা। যেটি ৩০ জানুয়ারী ২০১৮ সংসদে বিলটি পাশ হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণ
কাজ ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। পাশাপাশি এর একাডেমিক কার্যক্রমও শুরু হয়ে গেছে, যা চলবে রাজুর
বাজারে অবস্থিত টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারে। মূল ক্যাম্পাস তৈরি হওয়ার আগ পর্যন্ত এখানেই
ক্লাস চলবে।
শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয় মোট ৪ টি বিভাগ নিয়ে এর যাত্রা শুরু করবে। বিষয়গুলো হলোঃ
১. বাংলা
২. ইংরেজী
৩. কম্পিউটার সায়েন্স
৪. ডেভেলপমেন্ট ইকোনমিক্স
বিশ্ববিদ্যালয়টিতে থাকছে ছাত্র এবং ছাত্রীদের জন্য ১০ তলার পৃথক দুটি হল। যেখানে মনোরম
পরিবেশে উপাচার্য এবং রেজিস্ট্রারের জন্য ২ তলা বিশিষ্ট ডুপ্লেক্স ভবনেরও ব্যবস্থা রয়েছে।
এছাড়া ৩ তলা বিশিষ্ট সুবিশাল লাইব্রের‍ীতে থাকবে পাঠ্যবইসহ দেশ বিদেশের নানা ধরনের জার্নাল
ও রেফারেন্স বুক, যেখানে শিক্ষার্থীরা বই সংগ্রহের পাশাপাশি জ্ঞান অর্জনেরও সুযোগ পাবে।
থাকছে চারতলা বিশিষ্ট মেডিকেল এবং ডে-কেয়ার সেন্টার যেখানে শিক্ষার্থীরা পাবে উন্নতমানের
চিকিৎসা সুবিধা, ৫ তলা বিশিষ্ট স্টাফ স্কুল এবং কলেজ ভবন, উপ- উপাচার্যের জন্য ৪ তলা
বিশিষ্ট একটি ভবন।


“শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়” দেশের ৪২ তম সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। এটি নির্মাণে শিক্ষা ক্ষেত্রে
আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। যার ফলশ্রুতিতে কর্মসংস্থান বাড়ার পাশাপাশি শিক্ষার
সম্প্রসারণ এবং সম্ভাবনাময় নতুন একটা দ্বার উন্মুক্ত হতে চলেছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই মহৎ উদ্যোগের ফলে শিক্ষার্থীরা পেতে চলেছে উন্নত শিক্ষা এবং
গবেষণার নতুন সুযোগ। আর এভাবেই শিক্ষার মাধ্যমে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ, এগিয়ে যাবে
নেত্রকোণা। পরিবর্তন হবে এ জেলার মেধাবী শিক্ষার্থীদের ভাগ্য। এতে আরও উপকৃত হবে সুমনের
মত মেধাবী শিক্ষার্থীরা, পাবে উন্নত জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে তাদের বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণের
সুযোগ। পূরণ হবে ৮০ বছর বয়সী বরকত আলীর ভাগ্য।

মুক্তিযুদ্ধের পর নেত্রকোণা জেলার উন্নয়নঃ
অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়া বাঙ্গালি জাতির পুরানো ইতিহাস। নেত্রকোণার
স্বাধীনচেতা বীর জনগোষ্ঠী ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণের
প্রেক্ষিতে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। নেত্রকোণার রণাঙ্গনগুলোর দিকে দৃষ্টি দিলে দেখা যায়
তৎকালীন নেত্রকোণা মহুকুমার ৫০ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহাদাৎ বরণ করেছেন। এখানে উল্লেখ
করা প্রয়োজন নেত্রকোণার মুক্তিযোদ্ধারা শুধু নেত্রকোণায় যুদ্ধ করে শহীদ হননি। দেশের বিভিন্ন
জেলার রণাঙ্গনগুলোতে নেত্রকোণার মুক্তিযোদ্ধারাও যুদ্ধ করেছেন এবং অনেকে শহীদ হয়েছেন।
মুক্তিযুদ্ধ অন্তবর্তী সময়ে ময়মনসিংহ বিভাগের নেত্রকোণা জেলার বাহ্যিক এবং অভ্যন্তরীণ
অনেক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে।

যোগাযোগ ব্যবস্থাঃ

আন্তজেলা যোগাযোগ ব্যবস্থা্র উন্নতি । প্রায় ১৮৩ কিঃ মিঃ নেত্রকোণা-ময়মনসিংহ লোকাল ট্রেন
সার্ভিস এবং নেত্রকোণা থেকে ঢাকা- আন্তঃ নগর ও লোকাল ট্রেন সার্ভিস চালু। প্রায় ১৬২ কিঃমিঃ
নতুন রাস্তা নেত্রকোণা জেলার সাথে ঢাকার যোগাযোগ গতিশীল করেছে। নেত্রকোণা জেলার সাথে
উপজেলাগুলোর অভ্যন্তরীণ রাস্তা উন্নয়ন ।

হোটেল ও আবাসনের উন্নয়নঃ

যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি প্রভাব ফেলেছে জেলার হোটেল ও আবাসন ব্যবসায়। বর্তমানে ৯টি
সরকারি হোটেল ও আবাসন এবং ১১টি বেসরকারী হোটেল ও আবাসন রয়েছে।

ব্যবসা-বাণিজ্য উন্নয়নঃ

জেলার যেসব প্রাকৃতিক সম্পদ রয়েছে মধ্যে একটি হলো মৎস্য সম্পদ। বিরল প্রজাতির ও অত্যন্ত
পুষ্টিকর বিভিন্ন প্রজাতির মাছ পাওয়া যায়। যার কোন চাষাবাদ করা হয়না। অসংখ্য নদ-নদী, হাওর,
বিল ও ডোবায় এ মাছ পাওয়া যায়। এরপরও সরকারি উদ্যোগে বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ চলছে।
জেলার একমাত্র বিসিক শিল্প নগরী প্রতিষ্ঠিত হলেও এখানে আজ পর্যন্ত মাত্র একটি শিল্প
কারখানা গড়ে উঠলেও বাকি সকল শিল্প প্লট খালি রয়েছে।জেলায় বিচ্ছিন্নভাবে নারী-পুরুষ কুটির
শিল্পে কাজ করে যাচ্ছেন।

জেলা ব্রান্ডিংঃ

নৈসর্গিক নেত্রকোণা  স্লোগানকে সামনে রেখে নেত্রকোণা জেলার উন্নয়ন এবং জেলাকে
ডিজিটালাইজ করার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণঃ

জেলায় রয়েছে চীনামাটির পাহাড়, যার বুক চিরে জেগে উঠেছে এই নীলচে-সবুজ পানির হ্রদ। দুর্গাপুর
উপজেলা পরিষদ থেকে ৭ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে কুল্লাগড়া ইউনিয়নের আড়াপাড়া ও মাইজপাড়া
মৌজায় বিজয়পুরের সাদা মাটি অবস্থিত। বাংলাদেশের মধ্যে প্রকৃতির সম্পদ হিসেবে সাদা মাটির
অন্যতম বৃহৎখনিজ অঞ্চল এটি। সোমেশ্বরী নদী পার হয়ে রিক্সা বা হোন্ডায় অর্ধ কাচা-পাকা
রাস্তা দিয়ে বিজয়পুরের সাদামাটি অঞ্চলে যাওয়া যায়। যা উন্নয়ণের বড় উদাহরণগূলোর একটি।

দর্শনীয় স্থান উন্নয়নঃ

জেলায় রয়েছে ১১টি দর্শনীয় স্থান। যার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে স্থানীয় সরকার।
মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, নেত্রকোণাঃ
মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নেত্রকোণার সমাজকে মাদক মুক্ত রাখতে সহায়ক ভুমিকা পালন
করছে তথা সমাজ ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন ঘটছে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উন্নয়নঃ
- মহাবিদ্যালয় ২৭টি
-শিক্ষক প্রশিক্ষণ মহাবিদ্যালয় ০১টি
-উপজাতীয় কালচারাল একাডেমী ০১টি
- পাবলিক লাইব্রেরী-কাম-অডিটরিয়াম ০৬টি
- কারিগরী প্রতিষ্ঠান ০২টি (সরকারী ১টি এবং বেসরকারী ১টি)
অন্যান্য উন্নয়নঃ
প্রেস - ২২টি
বি,জি,বি ব্যাটালিয়ন হেড কোয়ার্টার - ০১টি
টেলিফোন অফিস - ১০টি
সাধারণ পাঠাগার - ০২টি
এল,এস,ডি গোডাউন - ১৫টি

এফ,এস, গোডাউন - ৩০টি
স্টেডিয়াম - ০১টি
--খালিয়াজুরী উপজেলা ব্যতিত সকল উপজেলায় হেলিপ্যাড রয়েছে।

Subscribe Newsletter

To get more updates subscribe our newsletter